Articles Comments

সরলপথ- الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ » ফজিলতের দিবস/ ঈদ / অনুষ্ঠান » বিশ্ব ভালবাসা দিবস- আপনি কি জানেন?

বিশ্ব ভালবাসা দিবস- আপনি কি জানেন?

||||||||||||||||||||||||||| আপনি কি জানেন ? ||||||||||||||||||||||||||
 
• সতের শত বছর আগের পৌত্তলিক রোমকদের মাঝে প্রচলিত “আধ্যাত্মিক ভালবাসা”র উৎসব ছিল এটি। খ্রীস্টধর্ম গ্রহণের পর একে খ্রীস্টীয় খোলস পরানোর জন্য তারা এই উৎসবকে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক জনৈক খ্রীস্টান সন্ন্যাসীর জীবনোৎসর্গ করার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট করে৷ আর তার স্মরণেই রোমক খ্রীস্টানরা এই উৎসব পালন অব্যাহত রাখে৷ এই সময়টাতেই “আধ্যাত্মিক ভালবাসা”র উৎসব, রূপান্তরিত হয়ে জৈবিক কামনা ও যৌনতার উৎসবে৷
 
• খ্রীস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ১৪ই ফেব্রুয়ারীকে ভালবাসার উৎসব দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন৷
 
• বাংলাদেশে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৩ইং সালে। “বিশ্বভালবাসা দিবস” এর ইংরেজী পরিভাষা World love day বলতে আসলে কিছু নেই।Saint valentine’s day বাংলা অর্থ হলো সাধু ভ্যালেন্টাইনের দিবস। কোন বিশেষ স্বার্থসিদ্ধির জন্য এর অর্থ বিকৃত করে এদেশে চালু করা হয়। আর এর ঠিক পিছনেই মানব জাতির আজন্ম শত্রু শয়তান, এইডস নামক মরণ-পেয়ালা হাতে নিয়ে দাঁত বের করে হাসে।

• মানুষ যখন বিশ্ব ভালবাসা দিবস সম্পর্কে জানত না, তখন পৃথিবীতে ভালবাসার অভাব ছিলনা। আজ পৃথিবীতে ভালবাসার বড় অভাব। তাই দিবস পালন করে ভালবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হয়! আর হবেই না কেন! অপবিত্রতা নোংরামি আর শঠতার মাঝে তো আর ভালবাসা নামক ভালো বস্তু থাকতে পারে না।
 
• এই দিনে তরুন তরুনীরা ভালোবাসার নামে এক দিনের জন্য ভেসে যান আদিম বর্বরতায়। ভালোবাসাহীন কামনার খেলায় মেতে উঠে তারা। এসব কামনার উপকরণের যোগানদার ব্যবসায়ীরা বিশ্বব্যাপী জমজমাট বাজার গড়ে তুলতেই চোখ ধাঁধানো প্রচারণার ফাঁদ পাতে। আর বোকার হদ্দ কামুকরা ঐ ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করে।
তরুণ-তরুণীদের সস্তা যৌন আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসকে একজন মুসলিম কি কোন ভাবে অনুমোদন করতে পারে? মহান আল্লাহ বলেন- ‘‘যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি..।’’(সূরা আন-নূর :১৯)
 
• স্বরস্বতী পুজার দিবসকে বিশ্বশিক্ষাদিবস বানিয়ে মুসলমানদের পালন করানো অথবা কুরবানীর ঈদকে “বিশ্ব মাংশ খাওয়া দিবস” নাম দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পালন করানো কি সমীচিন হতে পারে? অন্য ধর্মকে সম্মান করার নাম কি তাদের ধর্মকে পালন করা হতে পারে?
মহানবী (সাঃ) বলেন, ” যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই দলভুক্ত।” —( সুনান আবূ দাঊদ, সহীহ)
 
• সহীহ মুসলিমে এসেছে: “তোমাদের মধ্যে কেউ কোন অন্যায় দেখলে তা, সে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, যদি তা সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, তাও যদি না করতে পারে, তাহলে অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করবে। আর এ হচ্ছে (অন্তর দিয়ে ঘৃনা করা) দুর্বলতম ঈমান।”
অতএব কোন মুসলিমের মধ্যে সামান্যতম ঈমান অবশিষ্ট থাকলেও সে মন থেকে এই গর্হিত ও বিধর্মীয় দিবসকে ঘৃনা করবে; যার প্রকাশ হবে স্বভাবতই এ দিবস কেন্দ্রিক যাবতীয় কর্মকান্ডকে প্রত্যাখ্যান করা।
 
• বরং মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে- এ গর্হিত দিবস উদযাপনে কোন ধরনের সহযোগিতা করা থেকে বেঁচে থাকা। যেমন-পানাহার, বেচা/বিক্রি, কেনাকাটা, পণ্যপ্রস্তুত, উপহার বিনিময়, পত্র বিনিময়, বিজ্ঞাপন প্রদান ইত্যাদি যে কোন প্রকারের সহযোগিতা হোক না কেন – সেসব থেকে বেঁচে থাকা। কারণ এ ধরনের সহযোগিতা গুনাহর কাজ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার নামান্তর। আল্লাহ তাআলা বলেন: “সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ২]
• https://islamqa.info/bn/73007

 …………………….এটা পৌছে দেওয়া সকল মুসলমানদের একান্ত কর্তব্য…………………….

Share this nice post:
Profile photo of sajiblobon

Written by

Filed under: ফজিলতের দিবস/ ঈদ / অনুষ্ঠান

Leave a Reply

Skip to toolbar