Articles Comments

সরলপথ- الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ » muslim55, সমকালীন অপ্রিয় প্রসঙ্গ » আমাদের নিঃসঙ্গতা – শেষ পর্ব

আমাদের নিঃসঙ্গতা – শেষ পর্ব

আপাত বিচারে তরুণ প্রজন্মের ভালো মুসলিম ও মুসলিমাহ্ ভাইবোনরা ব্লগে তাদের জীবনের অনেক অমূল্য সময় অর্থহীন কথকতায় কাটিয়ে দিচ্ছেন – যা দেখলে আমার হৃদয়ে সত্যিই রক্তক্ষরণ হয়। কেউ আমাকে বলতেই পারেন:“ওদের বয়সে আপনি কি করেছেন তার ঠিক আছে?” একদম সত্যি কথা! আর কেউ যদি আরো একটু এগিয়ে গিয়ে গণতন্ত্রের এই দেশে, “আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশী তাকে দেবো” স্টাইলে বলেন, “আমাদের জীবনের সময় আমরা নষ্ট করবো, তাতে আপনার কি?” – তাহলে তো আর কথাই নেই! তবু বলছি, “আর্সেনিক-যুক্ত পানি” ব্যবহারে একজনের হাত-পা ক্ষয়ে গিয়েছে – আমার জন্য “আর্সেনিক-যুক্ত পানি” এড়িয়ে চলার জন্য, সেটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। আমি যদি আবার “আর্সেনিক-যুক্ত পানি” ব্যবহার করে দেখতে চাই যে, সত্যিই আমারো হাত-পা নষ্ট হয় কি না – তবে সেটা নিঃসন্দেহে বোকামী বলেই গণ্য হবে। আমার জীবনের অমূল্য সময় কাজে লাগে নি, সেটাই আপনার জীবনের সময় আল্লাহর পথে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিতে ব্যয় করার প্রেরণা হোক! এই সিরিজের লেখাগুলো মূলত বিশ্বাসী মুসলিম ভাইবোনেদর এই সত্য সম্বন্ধে সচেতন করতে লেখা যে, আড্ডা দিয়ে আর ব্লগর-ব্লগর করে কাটিয়ে দেবার জন্য তাদের জীবন নয়! বরং জীবনের হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি মুহূর্তই হয় আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করলাম, না হয় অপচয় করলাম – মাঝামাঝি কিছু হবার নয়। Inline image 1এই সিরিজের প্রথম ৩ টি লেখা রয়েছে এখানে:

“আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল শুধাইল না কেহ” – রবীন্দ্রনাথ এই কথাগুলো যত সহজে বলেছিলেন, আমরা হয়তো অত সহজে বলতে পারিনা। তবে এই বোধটা মনে হয় সহজাত – আল্লাহ্ হয়তো এই বোধ সমেতই আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমরা সহজে বলতে না পারলেও, ইনিয়ে বিনিয়ে “ব্লগর ব্লগর” করে হৃদয়ের কথাগুলোই অন্যকে শোনাতে চাই। তবে যে কথা “অ..নে..ক”-কে শোনানো যায়/হয় – তার “গভীরতা” স্বাভাবিকভাবেই কম হয়। একটা ব্যাপার লক্ষ্যণীয় – আপনি একটা বিষয়ে অনেক পড়া-শোনা করে গভীর জ্ঞান লাভ করতে পারেন। আবার অনেক বিষয়ে একটু একটু “চোখ বুলিয়ে“ অল্প অল্প জ্ঞান লাভ করতে পারেন। প্রথমটাকে আমরা depth of knowledge বা জ্ঞানের গভীরতা বলি আর দ্বিতীয়টাকে আমরা width of knowledge বা জ্ঞানের ব্যাপ্তি/প্রশস্ততা বলতে পারি।

একই ভাবে আপনার প্রেম, ভালোবাসা, ভালোলাগা যদি অনেক পাত্র/পাত্রীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, তবে তার গভীরতাই যে শুধু কম হবে তা নয়, বরং সে সবকে ঘিরে আপনার মাঝে একধরনের অতৃপ্তি থাকাটাই স্বাভাবিক – আজকের “ফেসবুক” আর “স্পা” কালচারে যা দৃশ্যমান। একটা উদাহরণ দিচ্ছি – ধরুন, আপনার একই সাথে ১০ জন মেয়ের সঙ্গে মোটামুটি ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে – আপনি খুব সচতেনভাবে না ভাবলেও, আপনার কাছে হয়তো এদের কারো চোখ, করো নাক, কারো চুল, কারো হাসি, কারো বাচনভঙ্গী আবার কারো বা শরীরের গঠন ভালো লেগে থাকতে পারে। এখন ধরুন এদের একজনকে আপনি যদি আপনার জীবন-সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নেন, তবে হয়তো দেখবেন যে, নিজ জীবন-সঙ্গীনির ব্যাপারে আপনার মনে যে image ছিলো, তার নিরিখে একটা অভাববোধ আপনাকে বহুদিন বা চিরদিন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে। একজন জীবন-সঙ্গিনী গ্রহণ করে স্থিতিশীল জীবনযাপন না করে – খুঁজতে খুঁজতে, দেখতে দেখতে, জানার চেষ্টা করে করে আপনার মনের চাওয়া-পাওয়াগুলো জটিল রূপ ধারন করতে পারে। কিন্তু ধরুন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনে বা মিডিয়া ইত্যাদিতে আমরা যেভাবে দেখার বা জানার সুযোগ পাই, সেভাবে যদি জানার, দেখার, তুলনা করার বা আর কিছু না হোক চোখের আন্দাজে মাপ-জোক করারও অবকাশ না থাকতো – বিবাহিত স্ত্রীই যদি আমাদের জীবনে সত্যিকার অর্থে আমাদের জানা, বোঝা বা দেখা প্রথম নারী হতেন, তাহলে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু হতে পারতো। আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা প্রতিটি মানুষকেই কিছু না কিছু আকর্ষণীয় গুণাবলী বা বৈশিষ্ট সমেত সৃষ্টি করেছেন। আপনার স্ত্রীর femininity এবং সেই সব আকর্ষণীয় গুণাবলী বা বৈশিষ্ট নিয়েই আপনি সন্তুষ্ট থাকতেন। একথাটাই নীচের উদ্ধৃতিতে ফুটে উঠেছে:

২০০৩ সালে বৃটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত Forget fashion, this is freedom নামক একটা প্রবন্ধে স্টেলা হোয়াইট নামের একজন ক্যাথলিক মহিলা হিজাব-নিকাব সমেত তার বোরকা (আবায়া) পরে চলাফেরার গল্প বলতে গিয়ে বলেন:

গত সপ্তাহে একটা জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে খুব করুণ একটা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে যার শিরোনাম ছিল “কি করে আপনার [নিজের] শরীরকে কম ঘৃণা করবেন”। আমি আমার আরব বন্ধু মালিকাকে প্রবন্ধটি দেখালাম, যে মাথা নাড়লো এবং বললো,

“আমাদের সমাজে পুরুষরা যখন কোন মেয়েকে বিয়ে করে, তখন তারা এতই কৃতার্থ বোধ করে যে, তাকে তারা সুন্দরী রাজকুমারীর মত দেখে – তার আকৃতি-প্রকৃতি যাই হোক না কেন।”

হিজাবের ভিতরে থাকা মুসলিম মহিলারা তাদের ক্ষমতা ও মর্যাদা সন্বন্ধে জানেন। একজন মুসলিম পুরুষ আমাকে বলেছিলেন, “আমার স্ত্রী হচ্ছে একখন্ড সুন্দর হীরার মত। তুমি কি মহামূল্যবান একখন্ড হীরাকে আঁচড় লাগার জন্য অথবা চুরি হয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তায় ফেলে রাখবে? না, তুমি বরং সেটাকে মখমলে মুড়ে রাখবে। আর একই রকমভাবে হিজাব আমার স্ত্রীকে সুরা দেয়, যে আমার কাছে যে কোন মণিমুক্তার চেয়ে মূল্যবান।”

[দেখুন: view this link]

একই ধরনের কথা ফুটে উঠেছে মুরাদ উইলফ্রেড হফম্যানের একটা লেখায় (দেখুন: Page#135, Islam the Alternative – Murad Hofmann) ।

এছাড়া আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে এমন বর্ণনা এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে, কেউ যদি কখনো কোন নারীকে দেখে আকর্ষণ বোধ করেন, তবে তিনি যেন তার স্ত্রীর কাছে যান এবং তার কাছে পরিতৃপ্তি লাভ করেন – যার নিহিতার্থ হচ্ছে: ঐ নারীর যা রয়েছে, মূলত তার স্ত্রীর কাছেও তাই আছে – যা তাকে প্রশান্তি দিতে পারে।

আজকের খবরের কাগজগুলো সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের জন্য, কাটতির জন্য, মেকী সহানুভূতির আড়ালে যে সব শিরোনাম রঙিন কালিতে ছবি সহকারে ছাপে, তার মাঝে একটা সিংহভাগ থাকে “পরকীয়া সম্পর্ক” থেকে উদ্ভূত জটিলতার গল্প – কত অ-”শান্তি”, কত অ-“সুখ”, কত অ-“তৃপ্তি” আর কত অস্থিরতার গল্প থাকে প্রতিটি প্রতিবেদনের পেছনে। আমরা অনেকদিন ধরে চলমান একটা প্রক্রিয়ার কেবল শেষ পর্বটা দেখেই মতামত ব্যক্ত করি: এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত! অথচ ভুলে যাই যে, এই প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটেছে বহু বহু আগে, হয়তো আপাতদৃষ্টিতে লঘু কোন আল্লাহ-দ্রোহীতার মধ্য দিয়ে। আমরা সবাই স্বাভাবকিভাবেই বিপরীত লিঙ্গের কারো বা (যে কারো) সঙ্গ-সুখ পছন্দ করবো – আল্লাহ্ আমাদের সেভাবেই বানিয়েছেন। আমরা সুখগুলো গ্রহণ করি পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে – একইভাবে বিনোদন বলতে যা বোঝায় সেগুলোও আমরা (সম্ভব হলে) পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে চাই। আমরা বিপরীত লিঙ্গের কাউকে দেখে আনন্দ পাই, তার কথা শুনে আনন্দ পাই, তাকে ছুঁয়ে আনন্দ পাই, তার গন্ধও আমাদের ভালো লাগে এবং তার স্বাদও (কথাগুলো বাস্তব – কারো কাছে আদিরসাত্মক মনে হলে আমাকে মাফ করবেন)! ইসলামের উপর পড়শোনা করে আমি যা বুঝেছি, বিনোদন বলতে যা বোঝায়, তার প্রায় সবটুকুই আপনাকে কেবল একটি এবং একটি মাত্র সম্পর্কের কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে – যিনি হচ্ছেন ইসলাম সম্মত উপায়ে আল্লাহর নামে আপনি যাকে স্ত্রী বা স্বামী হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এজন্য ইসলামের সকল মূলধারা স্কলার বলবেন যে, একজন “গায়ের মাহরাম” মহিলাকে হিজাব/নেকাব ছাড়া সামনা-সামনি দেখা যেমন হারাম, তেমনি তার হিজাব/নেকাব বিহীন ছবি দেখাও হারাম; তার সাথে সামনা সামনি একান্তে কথা বলা যেমন হারাম, তেমনি টেলিফোনে একান্তে অপ্রয়োজনীয় বা ব্যক্তিগত কথা বলাও হারাম। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ইন্টারনেটে বিভিন্ন “চ্যাটরূমে”, “ফেসবুকে” বাক্য বিনিময়ের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য! “ফেসবুক” ইত্যাদি থেকে কত সংসার ভাঙ্গছে/ভেঙ্গেছে – তা পৃথিবী সম্বন্ধে যারা সারাক্ষণ খবর রাখেন, তারা আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবেন। ভালোবেসে, “tell me how am I supposed to live without you” ধাঁচের প্রেমের পরণতিতে ঈর্ষণীয় সফল দাম্পত্য জীবনের সূচনা হয়েছিল যাদের – আমার পরিচিত এমন এক দম্পতির ঘর বহু বছর একসাথে থাকার পরও এই তো সেদিন ভেঙ্গে গেলো। কেউ কারণ জানতে চাইলে, আর এক শব্দে যদি তা বলার চেষ্টা করা হয়, তবে বলা যেত: “ফেসবুক”! মহিলা ঢাকার সবচেয়ে বড় “স্ট্যাটাস সিম্বল” ইংরেজী মিডিয়াম স্কুলগুলোর একটাতে শখের চাকুরী করতেন। আমার কাছে জ্ঞাত নয়, এমন কারণে হয়তো যে লোকটির জন্য একসময় মুহূর্তে জীবন দিতে পারতেন, সেই লোকটির কাছে হৃদয়ের কথা না বলে, বাইরে “হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল হয়ে” ওঠেন তিনি। কিছুটা কৌতুহল ও কিছুটা নিষিদ্ধতার উত্তেজনায় কখনো হয়তো একটা “ফেসবুক” একাউন্ট খোলেন – তারপরের ব্যাপার-স্যাপার গতানুগতিক। সংসার যখন ভাঙছে ভাঙছে অবস্থা, তখন মহিলার এক স্কুল-শিক্ষিকা সহকর্মী ভদ্রলোককে কাউন্সেলিং করতে এসে বলেন, “আপনারা বাইরে যান, কি করেন আমরা কি সব সময় সেটার খোঁজ রাখি? আমাদেরও যদি ‘ভর্চুয়াল জগতে’ সাইডলাইনে দু’একজন বন্ধু থাকে, তবে তাতে কি এমন আসে যায়?” নাউযুবিল্লাহ্! একজন শিক্ষিকা, (বয়োঃসন্ধি পার হওয়া দু’টো মেয়ের মা) সহকর্মীর জন্য কি সুন্দর পরার্মশ রাখছেন – এরা আমাদের সন্তাদের শিক্ষিকা বা মা !!

দুঃখজনকভাবে “চ্যাটরূম” ও “ফেসবুক”-এর degeneration effect সম্বন্ধে উপরে আমরা যা যা বললাম, তা অনেকাংশেই ব্লগিং-এর বেলায়ও প্রযোজ্য। এখানে, তুলনামূলকভাবে ভালো মুসলিম অধ্যুষিত এই ব্লগেও, আমি দেখেছি অনেক তথাকথিত ইসলামপন্থী বিবাহিত ভাইয়েরাও অন্যের স্ত্রীর সাথে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে বাক্য বিনিময় করছেন – আবার ইসলামের প্রতি আহবান জানানো বিবাহিতা মহিলা ব্লগাররাও নিজের জীবনের বিয়ে, কনে-দেখা, পছন্দ-অপছন্দের মত একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করে চলেছেন পর-পুরুষদের। আর তরুণ/তরুণী ব্লগারদের কথা তো রয়েই গেল – তাদের কারো কারো অবস্থা দেখে মনে হয় যে “নিজের ভার বহন করে তারা আর চলতে পারছেন না”। এমনটা কারো বোধ হতেই পারে জীবনের কোন একটা cross-section-এ। কিন্তু একজন মুসলিম/মুসলিমাহর জন্য ব্লগে ইনিয়ে বিনিয়ে “সহে না যাতনা” শ্রেণীর প্রেমের কবিতা লিখে বিপরীত লিংগের কারো মনযোগ আকর্ষণ করা বা ইঙ্গিতবহ বাক্য বিনিময়ের মাধ্যমে “হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল” ভাব প্রকাশ করাটা কোন solution নয়! আমরা একে অপরকে সামনা সামনি দেখছি না বলেই কি সব “জায়েয”?? আসুন দেখি স্কলাররা কি বলেন এসব সম্বন্ধে:

Fear Allaah, and do not speak to non-mahram men. This is safer for your religious commitment and purer for your heart. You should note that marriage to a righteous man is a blessing from Allaah, and a blessing cannot be acquired by means of sin.
Shaykh Ibn Jibreen (may Allaah preserve him) was asked: What is the ruling on correspondence between young men and women, if this correspondence is free from immorality and love?
He replied:
It is not permissible for any man to correspond with a woman who is not his mahram, because of the fitnah (temptation) involved in that. A person may think that there is no fitnah, but the Shaytaan will keep trying until he tempts him. The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) commanded those who heard of the Dajjaal to keep away from him, and said that a man may approach him as a believer, but the Dajjaal will keep trying until he leads him astray.

সূত্র: view this link

যাহোক এভাবে ফেসবুকে বা ব্লগে যারা “হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল” তাদের কয়েকটি বিষয় ভাবা উচিত:

১) হৃদয়ের কথা বলার জন্য কি ধর্মত আমার একজন নিজস্ব মানুষ রয়েছে? যদি না থেকে থাকে তবে “দুধের স্বাদ, ঘোলে“ না মিটিয়ে যে কারো উচিত, যথাশীঘ্র সম্ভব বৈধভাবে বিয়ের মাধ্যমে একজন জীবন সাথী জীবনে গ্রহণ করা।

২) যদি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আমরা তেমন একজন স্ত্রী/স্বামী গ্রহণ করে থাকি, তবে আমাদের “হৃদয়ের কথা” শুধু তাকেই বলবার কথা। “হৃদয়ের কথা” তাকে না বলে, যদি অন্য কোন নারী/পুরুষকে আমরা শোনাতে চাই, তবে তা একাধারে অবিশ্বস্ততা ও গুনাহর কাজ। আমাদের বুঝতে হবে যে, আমাদের জীবনসঙ্গীর মাঝে আমাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি -অথবা- আমাদের নিজেদেরই কোন সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন প্রকার কবীরা গুনাহ্ বা অবিচার-ব্যভিচার থেকে বেঁচে থাকতে, আমাদের উচিত ব্যাপারটা নিয়ে খুব seriously ভাবা। প্রথমত স্ত্রী/স্বামীর সাথে সর্ম্পকটা মেরামত করা যায় কি না তার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত। তা না হলে, প্রয়োজনবোধে, শান্তির্পূণভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করে পুণরায় এমন জীবনসঙ্গী বেছে নেয়া উচিত, যাকে আমাদের সকল “হৃদয়ের কথা” বলে আমরা প্রশান্তি লাভ করবো, ইনশা’আল্লাহ্!

সর্বোপরি আমরা মনে রাখবো যে, রিযিকের আওতাভুক্ত আর সব কিছুর মতই সুখ, প্রশান্তি ও তৃপ্তিও কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে – কোন পাপাচারের মাধ্যমে বা অস্থিরচিত্ততার মাধ্যমে সে সব কখনো অর্জন করা সম্ভব নয়। আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন, তার জন্য প্রতিনিয়ত শুকরিয়া জানাবো – আর কাঙ্খিত কিছু না পেয়ে থাকলেও তার জন্য প্রথমেই আল্লাহর কাছে “দরখাস্ত” করবো !!

Share this nice post:
Profile photo of sajiblobon

Written by

Filed under: muslim55, সমকালীন অপ্রিয় প্রসঙ্গ

Leave a Reply

Skip to toolbar